ফুলবাড়ীয়া ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গঙ্গার তলদেশে মেট্রো যাত্রা: এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

ড. জাহাঙ্গীর আলম: কলকাতা শহর শুধু তার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপনের জন্যও প্রশংসিত। আর তারই এক অনন্য নিদর্শন হলো গঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে চলা মেট্রোরেল। এটি ভারতের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গভীরতম নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত মেট্রো টানেল, যা বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়েছে। হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত এই মেট্রো চলাচলের অভিজ্ঞতা সত্যিই এক বিস্ময়কর অনুভূতি এনে দেয়।

যাত্রার সময় যখন মেট্রো গঙ্গার নিচে প্রবেশ করে, তখন স্পিকারে ঘোষিত হয়, “আমরা এখন গঙ্গার ৩৩ মিটার নিচ দিয়ে চলেছি।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এক অনন্য অনুভূতি জাগে মনে—মাথার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গার বিশাল জলরাশি, অথচ আমরা নিচ দিয়ে নিরাপদে ছুটে চলেছি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে! আলো-আঁধারি পরিবেশের মধ্যে দিয়ে মসৃণভাবে এগিয়ে চলা মেট্রোতে বসে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির দৃশ্যের মধ্যে আছি।

এই প্রকল্পের নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তি অত্যন্ত আধুনিক। গঙ্গার নিচ দিয়ে টানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫২০ মিটার, যা সম্পূর্ণ জলরোধী এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মান বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। টানেল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে টানেল বোরিং মেশিন (TBM), যা জার্মানি ও জাপান থেকে আনা হয়েছে। হাওড়া মেট্রো স্টেশনটি ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন হিসেবে পরিচিত, যা প্রায় ৩৩ মিটার গভীরে অবস্থিত। এই মেট্রো চালু হওয়ার ফলে হাওড়া থেকে কলকাতা পৌঁছতে এখন মাত্র ৪৫ সেকেন্ড সময় লাগে, যা অতীতে কল্পনাও করা যেত না! কলকাতা মেট্রোর এই নতুন সংযোজন শুধু শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলেছে তাই নয়, বরং এটি বিশ্বদরবারে কলকাতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। যারা এখনো এই যাত্রা করেননি, তারা অবশ্যই একবার এই অভিজ্ঞতা নিন। গঙ্গার নিচ দিয়ে মেট্রোতে চড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চ ও গর্ব দুই-ই একসঙ্গে অনুভব করা যায়!

ট্যাগ:
জনপ্রিয়

ফুলবাড়ীয়ায় জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ উদ্বোধন

গঙ্গার তলদেশে মেট্রো যাত্রা: এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

আপডেট: ০৭:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ড. জাহাঙ্গীর আলম: কলকাতা শহর শুধু তার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপনের জন্যও প্রশংসিত। আর তারই এক অনন্য নিদর্শন হলো গঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে চলা মেট্রোরেল। এটি ভারতের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গভীরতম নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত মেট্রো টানেল, যা বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়েছে। হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত এই মেট্রো চলাচলের অভিজ্ঞতা সত্যিই এক বিস্ময়কর অনুভূতি এনে দেয়।

যাত্রার সময় যখন মেট্রো গঙ্গার নিচে প্রবেশ করে, তখন স্পিকারে ঘোষিত হয়, “আমরা এখন গঙ্গার ৩৩ মিটার নিচ দিয়ে চলেছি।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এক অনন্য অনুভূতি জাগে মনে—মাথার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গার বিশাল জলরাশি, অথচ আমরা নিচ দিয়ে নিরাপদে ছুটে চলেছি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে! আলো-আঁধারি পরিবেশের মধ্যে দিয়ে মসৃণভাবে এগিয়ে চলা মেট্রোতে বসে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির দৃশ্যের মধ্যে আছি।

এই প্রকল্পের নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তি অত্যন্ত আধুনিক। গঙ্গার নিচ দিয়ে টানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫২০ মিটার, যা সম্পূর্ণ জলরোধী এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মান বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। টানেল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে টানেল বোরিং মেশিন (TBM), যা জার্মানি ও জাপান থেকে আনা হয়েছে। হাওড়া মেট্রো স্টেশনটি ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন হিসেবে পরিচিত, যা প্রায় ৩৩ মিটার গভীরে অবস্থিত। এই মেট্রো চালু হওয়ার ফলে হাওড়া থেকে কলকাতা পৌঁছতে এখন মাত্র ৪৫ সেকেন্ড সময় লাগে, যা অতীতে কল্পনাও করা যেত না! কলকাতা মেট্রোর এই নতুন সংযোজন শুধু শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলেছে তাই নয়, বরং এটি বিশ্বদরবারে কলকাতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। যারা এখনো এই যাত্রা করেননি, তারা অবশ্যই একবার এই অভিজ্ঞতা নিন। গঙ্গার নিচ দিয়ে মেট্রোতে চড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চ ও গর্ব দুই-ই একসঙ্গে অনুভব করা যায়!